Tuesday, September 27, 2011

কিভাবে বাড়াবেন এনার্জি লেভেল

কিভাবে বাড়াবেন এনার্জি লেভেল
সারাদিনের কাজের জন্য চাই প্রচুর এনার্জি। এক্সারসাইজ করলে ফিটনেস বাড়ে, কিন্তু এর ফলে শরীরের ক্যালরি খরচ হয়। তাই সবার জন্য সঠিক এক্সারসাইজ এবং হেলদি ডায়েট জরুরী। এ বিষয়ে নিম্নে কিছু পরামর্শ দেয়া হল_

* সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক্সারসাইজ শুরু করবেন না। এক্সারসাইজ করার সময় শরীর যথেষ্ট অ্যাকটিভ থাকা দরকার। পাশাপাশি এনার্জি লেভেল যাতে লো না থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখুন। * ঘুম থেকে ওঠার অন্তত ৩ ঘণ্টা পর এক্সারসাইজ শুরু করুন। * ভারী এক্সারসাইজ বা ওয়েট ট্রেনিং করার আগে বেশ কিছুক্ষণ ফ্রি-হ্যান্ড করে নিন। এতে ওয়েট ট্রেনিং করার জন্য প্রয়োজনীয় এনার্জি পাবেন। * প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে এক্সারসাইজ করলে সেটা আপনার স্ট্রেস বাস্টার হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সকালের দিকেই একটা সময় বেছে নিলে সারাদিনের জন্য প্রয়োজনীয় এনার্জি পাবেন। * কাজের চাপে সারাদিন শেষে এনার্জি লেভেল খুব লো মনে হলে ফিটনেস এক্সপার্টের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা যোগাসন করতে পারেন। * কোনো কারণেই অতিরিক্ত টেনশন করবেন না। * সপ্তাহে ৬ দিন এক্সারসাইজ করুন, একদিন বিশ্রাম নিন। এনার্জি লেভেল বাড়বে। * এনার্জি লেভেল ব্যালান্সে রাখার জন্য প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাবেন। * এনার্জি লেভেল ব্যালান্সে রাখার জন্য প্রতিদিনের ফিটনেস রুটিনে হঠাৎ করে কোনো পরিবর্তন করবেন না। * শরীর খারাপ হলে সে সময় কোনো এক্সারসাইজ করবেন না। এ সময় এনার্জি লেভেল স্বাভাবিকভাবেই লো থাকবে। সুস্থ হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী আবার হালকা এক্সারসাইজ শুরু করুন, আস্তে আস্তে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় এনার্জি পাবেন।
স্বাস্থ্য ডেস্ক
Source: www.bangladesh-pratidin.com

Sunday, September 25, 2011

খাবেন নাকি পোকা!

খাবেন নাকি পোকা!
রণক ইকরাম
প্রতিদিন আমাদের খাবার তালিকায় যোগ হচ্ছে নানান স্বাদের বিচিত্র সব খাবার। প্রচলিত খাদ্যশস্য আর প্রাকৃতিক উপাদানের সংকট ও একঘেয়েমি দূর করতে সবাই খুঁজছে বিকল্প খাদ্যের। আর সেই বিকল্প খাবার আর কিছু নয়, তা হচ্ছে বিভিন্ন জাতের পোকামাকড়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, খাদ্য সংকট অথবা রসনা বিলাস যে কোনোটির কারণে বিশ্বের নানা দেশে পোকামাকড় এখন দারুণ জনপ্রিয় খাবার। শুনতে গা রি রি করলেও বিশ্বজুড়ে খাবার হিসেবে পোকামাকড়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বৈ কমছে না। আমাদের প্রাণিজগতের একটা বিশাল অংশজুড়ে পোকামাকড়ের দখল। অধিকাংশ পোকামাকড়ই আমাদের কাছে হয় ক্ষতিকারক, নতুবা অপাঙ্ক্তেয়। এরা দেখতে যেমন কুৎসিত, তেমনি অনেক পোকামাকড়েরই রয়েছে উগ্র গন্ধ আর বিষাক্ত হুল। এরপরও আস্তে আস্তে মানুষের খাদ্য তালিকায় ঠিকই জায়গা করে নিচ্ছে এরা। আফ্রিকা, এশিয়া তো বটেই, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এমন কি ইউরোপের অনেক দেশে খাদ্য হিসেবে পোকামাকড় এখন দারুণ জনপ্রিয়। আর এই পোকামাকড়ের খাবার তৈরি প্রণালীতেও রয়েছে অনেক বৈচিত্র্য। পতঙ্গভোজীরা রীতিমতো চিংড়ি, বাদাম কিংবা মসলা দিয়েই এসব পোকামাকড় রান্না করে থাকে, যা খেতে নাকি দারুণ সুস্বাদু। আরশোলা বা তেলাপোকার নাম শুনলেই রি রি করে গা। কিন্তু এর চাটনি চীনাদের অত্যন্ত প্রিয় খাবার। এ খাবার থাইল্যান্ডেও জনপ্রিয়। এছাড়া এখানে গুবরে পোকার তরকারি ছাড়া অতিথি আপ্যায়ন জমেই না। থাইবাসী জাল লাগানো এক ধরনের কাঠি দিয়ে জঙ্গল থেকে ধরে আনে লাখ লাখ কিলবিলে কীটপতঙ্গ। ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে, বস্তা ভর্তি করে বিক্রির জন্য পাঠানো হয় বাজারে। গ্রামবাসী শুকনো অবস্থায় খায় এগুলো। শুকনো কীটপতঙ্গ দিয়ে ওরা মজার মজার পিঠাও তৈরি করে।

ক্যারিবিয়ান সাগরের সুনীল জলে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপ জ্যামাইকা। এখানকার অধিবাসীরা গণ্যমান্য অতিথিদের এই ঝিঁ-ঝিঁ পোকা খেতে দেয়। তামিল প্রবাদে রয়েছে_ 'তুমি যদি এক হাজার পিঁপড়ে খাও, তবে একটি হাতির শক্তি লাভ করবে।' আমাদের গ্রামাঞ্চলেও কথিত আছে_ 'পিঁপড়া খেলে সাঁতার শেখা যায়।' এসব প্রবাদ সত্য হোক বা না হোক বিশ্বের অনেক স্থানেই পিঁপড়াকে খুব সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর খাবার মনে করা হয়। থাই রেস্তোরাঁগুলোতে পিঁপড়ার সুপ খুব জনপ্রিয়। পিঁপড়ার ডিমের তরকারি একটু বেশি দামি খাবার। আফ্রিকা, মেক্সিকো এবং ভারতের কিছু কিছু এলাকায় পিঁপড়ার কদর আকাশচুম্বী। এমন কি আমাদের রংপুর, দিনাজপুর এবং বগুড়া জেলার উপজাতীয় সাঁওতালরা পিঁপড়া খেতে ভীষণ পছন্দ করে। ব্যাংককের পূর্বাঞ্চলীয় শ্রী রাঁচা শহরবাসী অতিথি আপ্যায়নে এনে দেয় প্লেটভর্তি ঝিঁ-ঝিঁ পোকার মোরব্বা। থাইবাসীর খুব প্রিয় ও মুখরোচক একটি খাবার হলো পঙ্গপালের আচার। পিঁপড়া, উইপোকা, শুঁয়োপোকার শূককীট ও ফড়িং মাখনে ভেজে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। এখানকার হোটেল-রেস্তোরাঁর মেনুতে পাবেন মৌমাছির শূককীট, মথ, মাছি আর ঘুণপোকার সুপ। থাইল্যান্ডের বুড়ো আর বাড়ন্ত শিশুদের পুষ্টিকর স্বাস্থ্য টনিক হচ্ছে 'এসপনগোপাস' নামের বড় বড় গান্ধিপোকা। এই গান্ধিপোকা আসামের অনেক এলাকায় ভাতের সঙ্গে খাওয়া হয়। দক্ষিণ ভারতের কোনো কোনো অঞ্চলে ১২-১৪ বছরের কিশোরকে উইপোকার রানী ধরে খেতে দেওয়া হয়। উইপোকার রানী খেলে নাকি ছেলেরা ভালো দৌড়াতে পারে এবং এতে নাকি দৌড়-ঝাঁপজনিত ক্লান্তিও দূর হয়। ভারতের কিছু আদিবাসী 'এপিস ডরসেটা' নামে এক ধরনের জংলী মৌমাছির শূককীট ও পুত্তলি খায়। অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দারা 'এগ্রোটিস ইনফিউছা' নামক 'মথ' থলেতে সংগ্রহ করে নিয়ে কয়লার আগুনে ঝলসে এক ধরনের মুখরোচক খাবার তৈরি করে। এতে রয়েছে প্রচুর তেল আর এটি খেতে নাকি একেবারে বাদামের মতো। কানাডার ডালভেগান, ভ্যাঙ্কুভার অঞ্চলের লোকেরা ঘাস ফড়িংকে বিলাসবহুল খাদ্য হিসেবে গণ্য করে। ফড়িংগুলোকে প্রথমে আগুনে ঝলসে নেওয়া হয়। তারপর তা গুঁড়ো করে নরম আঠালো লেই তৈরি করা হয়। এই লেই ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে রুটি তৈরি হয়। এ রুটি খেতে দারুণ উপাদেয়। শোনা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সশস্ত্র বাহিনীকেও রান্না করা খাসফড়িং খেতে দেওয়া হয়েছিল। চীনে আরও আগ থেকেই ডাইটিসসিডি গোত্রের মিষ্টি পানির পোকার চাষ শুরু হয়েছে। এসব পোকাকে পানি থেকে তুলে রোদে শুকানো হয়। ঠিক গরম কেকের মতোই এর বিক্রির বাজার। জুন-জুলাইয়ে আমেরিকার ওরিগন ও ওয়াশিংটনে কিছু লোক রাতের বেলায় মশাল জ্বেলে পাইন বন থেকে কলোরাডিয়া প্যানডেরা মথের শূককীট সংগ্রহ করে। তা থেকে তৈরি খাবার 'পি-অ্যাগ-গাই' ছেলেবুড়ো সবার প্রিয়। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো অঞ্চলের অধিবাসীরা গ্রাইল্লাস অ্যাসিমিলস বৈজ্ঞানিক নামের ঝিঁ-ঝিঁ পোকা খেতে পছন্দ করে। এই কালো-বাদামি পতঙ্গকে প্রথমে তারা আগুনে ঝলসে নেয়, তারপর মাখন ও লবণ মাখিয়ে পরিবেশন করে। পঙ্গপাল রান্নার প্রণালী একেক দেশে একেক রকম। মিসরের বেদুইনরা কয়লার আগুনে এগুলোকে জীবন্ত দগ্ধ করে পরম তৃপ্তিতে খায়। তবে আগুনে ঝলসানোর আগে এদের শরীর থেকে পাখা এবং পা ছাড়িয়ে নেয়। মরক্কোর অধিবাসীরা এই পোকা বাড়ির ছাদে শুকিয়ে তারপর আগুনে ঝলসে পরিবেশন করে। প্রাচ্যের অনেক স্থানে শস্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানকার অধিবাসীরা পঙ্গপাল ধরে এনে রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে রুটি তৈরি করে খায়। গুবরে পোকার মোটাসোটা শূককীট নাকি খুবই উপাদেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাদাগাস্কার ও মোজাম্বিকের লোকজন ওই লার্ভাকে কাঁচা চিবিয়ে খায়। গ্রিস ও রোমের সুসভ্য নাগরিকরাও গুবরে পোকার শূককীট থেকে তৈরি খাবার বেশ আনন্দের সঙ্গেই খেয়ে থাকেন। প্রশ্ন আসতে পারে পোকামাকড়ের তৈরি এসব খাবার কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত। আর আমাদের প্রচলিত খাবারের মতো এর কি খাদ্যগুণ রয়েছে? অবশ্যই আছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন এসব খাবারে প্রোটিনের ছড়াছড়ির কথা। প্রতি একশ গ্রাম ঘাস ফড়িংয়ে ৫৭ গ্রাম, গুবরে পোকায় ৬৪ গ্রাম, উইপোকায় ৩৮ গ্রাম আর পঙ্গপালে রয়েছে ৬০ গ্রাম প্রোটিন। আর স্নেহপদার্থ, শর্করা, লোহা, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন তো রয়েছেই। তাই শুনতে খারাপ বা বলতে বাজে শুনালেও খাদ্য হিসেবে পোকামাকড় মোটেও ফেলনা নয়। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যদি পোকামাকড়ের প্রতি নাক সিটকানো ভাবটা ঝেড়ে ফেলা যায়, তাহলে দুর্গম জায়গা বা বনজঙ্গলে অবস্থানের সময় খাদ্য সংকট দেখা দিলেও কোনো অসুবিধা হবে না।
Source:www.bangladesh-pratidin.com

Saturday, September 24, 2011

সমুদ্রের জল খাওয়া যাবে?

সমুদ্রের জল খাওয়া যাবে?

একবিংশ শতকে বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে অনেক স্বাচ্ছন্দ্য। বেড়েছে মানুষের গড় আয়ুও। এই আশা ও সম্ভাবনার জেরেই সমুদ্র জলকে লবণমুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন কেউ কেউ। যদি বিজ্ঞান-প্রযুক্তি একসঙ্গে মিলে এই কাজটি করতে পারে, তাহলে এই খোঁজ মানুষকে দেবে বাড়তি জীবনীশক্তি। এখনও পর্যন্ত যা জানি তাতে বলাই যায় যে, যে কোনো পদ্ধতিতে সমুদ্রের লোনা জলকে লবণমুক্ত করতে হলে চাই এমন সব কারিগরি ব্যবস্থা যাতে প্রচুর বিদ্যুতের খচর হবে। আর ঝিলি্ল বা মেমব্রেনের খরচটাও বিশাল। লবণমুক্ত করার কারখানায় সমুদ্রের জলকে পাঠানোর আগে যেসব প্রাক-পরিশোধন (প্রি-ট্রিটমেন্ট) করতে হবে, তার খরচও অনেক।

কিন্তু রিভার্স অসমোসিস পদ্ধতি প্রচলনের পর প্রযুক্তিবিদরা একটু গলা উঁচু করতে বলতে পারছেন যে, খরচটা মোবাইল ফোনের মতো দিন দিন নিম্নগামী। বর্তমানে সমুদ্র ছাড়া উপায়ই বা কি? পুকুর, নদী-নালার জল কিছুই করে উঠতে পারছে না। কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য একসঙ্গে পান করে ফেলছে এসব জল। ভূগর্ভস্থ জলের দিকে নজর দিতে গিয়ে ফ্লুরাইড ও আর্সেনিকের ছোবল পড়ছে সবখানে। কোথাও জল নেই। টিউবওয়েলের জলে বহু খারাপ জিনিস পাওয়া যাচ্ছে। সমুদ্রের কাছে মাটিতে টিউবওয়েল বসালে সেখানকার জল অনেক সময় লবণাক্ত স্বাদ হয়। সমুদ্রের জল টিউবওয়েলের জলস্তরে ঢুকে গিয়ে সব বরবাদ করে দেয়। আমরা যাই কোথায়?
তাই একসময়ে বিজ্ঞানীরা বলতেন, সমুদ্রের জলকে ছেড়ে দাও। গবেষণা করে এতো টাকা খরচ করার মানে হয় না। এখন আবার তারাই বলছেন, সমুদ্রের জলকে পানীয় জল করে তুলবার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন। কারণ, আমরা অন্য কিছুর কথা ভেবে উঠতে পারছি না।
পৃথিবীর মোট জলের ২.৫ শতাংশ মিষ্টি জল। সমুদ্রের জল ৯৭.৫ শতাংশ। গত ৩০ বছর ধরে সমুদ্রের লোনা জলকে লবণমুক্ত করার চেষ্টা চলছে সারা বিশ্বে। শুকনো মধ্যপ্রাচ্য দেশে এসব নিয়ে কাজ হচ্ছে বেশি। কারণ তাদের অন্য উপায় নেই। গত ৩০ বছরের মধ্যে পৃথিবীর ১২০টি দেশে ১৫০০০ সমুদ্রের জল লবণমুক্ত করবার প্ল্যান্ট বসানো হয়েছে। এগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রতিদিন ৩৫০ কোটি গ্যালন। স্পেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং এরকম কয়েকটি দেশে_ তাদের প্রয়োজনের অর্ধেকেরও বেশি জল আসে সমুদ্র মন্থন করে। রিভার্স অসমোসিস প্রক্রিয়া শুরু হবার পর সমুদ্রের জল লবণমুক্ত করার খরচটা ধাপে ধাপে কমে আসছে। ফলে বহু দেশের অনেক দেশেই এই প্ল্যান্ট বসানোর কথা ভাবা হচ্ছে। আগে সমুদ্রের লবণাক্ত জল শোধন করতে তাপের ব্যবহার করা হতো। এটা খরচসাধ্য উপায়। ডিসটিলড্ ওয়াটার তাই জনপ্রিয় হলো না। রিভার্স অসমোসিস মেমব্রেন সমুদ্রের জলের লবণাক্ততাকে দূর করতে পারে। সেই সঙ্গে পারে দ্রবীভূত জৈব ও অজৈব পদার্থকেও আলাদা করে দিতে। আগামী দিনে জারণ প্রতিরোধী মেমব্রেনও তৈরি করা যাবে। তার ফলে বহুদিন ব্যবহার করলেও ঝিলি্ল পচে নষ্ট হবে না। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার কাছে ৫টি বড় বড় সমুদ্র জল প্রকল্প চালু হচ্ছে। দিনে ৫.৬ লাখ ঘন মিটার পানীয় জল তৈরি হবে। এভাবেই এগিয়ে চলেছে সমুদ্রের জলকে বাগে আনার প্রচেষ্টা। যদি খরচ আরও খানিকটা কমানো যায় তবে বাংলাদেশেও সমুদ্রের জলকে নিয়ে অনেক কিছু ভাবা যাবে। এদেশ খরা ও তাপদাহের হাত থেকে বাঁচবে। সবুজায়ন প্রকল্পও সার্থক হবে।

* রকমারি ডেস্ক
Source: www.bangladesh-pratidin.com

Thursday, September 22, 2011

রহস্যময় অ্যাডাম পিক

রহস্যময় অ্যাডাম পিক

লাখ লাখ বছর ধরে যে চূড়াটি মানুষের কাছে রহস্যময়তার স্বাক্ষর বহন করে চলেছে তার নাম অ্যাডাম পিক্ (Adam peak) বা আদম চূড়া। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের শ্রীপাডা নামক প্রদেশে এই চূড়াটি অবস্থিত ।

খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম_ এই চার ধর্মের অনুসারীদের কাছে অতি পবিত্র এই চূড়াটি (পাহাড়টি)। এই চূড়াতেই মানুষের আদি পিতা হজরত আদম (আ.) বেহেশত থেকে সরাসরি পতিত হয়েছিলেন। চূড়াটির চারদিকে সবুজের বিপুল সমারোহ, মাঝেমধ্যে পাহাড়ি উঁচু-নিচু টিলা। পাহাড়ি চূড়ার আশপাশে রয়েছে অসংখ্য ছো্ট নদী ও পাহাড়ি ঝরনা। সব মিলে এক মায়াবী নয়নাভিরাম দৃশ্য। হজরত আদম (আ.) বেহেশত থেকে পতিত হন শ্রীলঙ্কায়, আর আদি মাতা হজরত হওয়া (আ.) পতিত হন জেরুজালেমে। শ্রীলঙ্কা থেকে জেরুজালেমের দূরত্ব কয়েকশ হাজার বর্গ কি.মি.। মহান প্রভুর কাছে অনেক অনুতাপের পর উভয়ে মিলিত হন মধ্যপ্রাচ্যে।
সেই থেকে শুরু করে বর্তমান অবধি শ্রীলঙ্কার এই চূড়াকে কেন্দ্র করে রহস্য রয়ে গেছে। হজরত আদম (আ.) এই চূড়ায় পতিত হয়েছিলেন বিধায় এই চূড়াটিকে বলা হয় আদম চূড়া বা অ্যাডাম পিক্। এই চূড়ার উচ্চতা ৭৩৬২ ফুট বা ২২৪৩ মিটার। চূড়াটিতে আদম (আ.) এর পায়ের যে চিহ্ন রয়েছে তার পরিমাপ হচ্ছে ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হচ্ছে ২ ফুট ৬ ইঞ্চি। বৌদ্ধ ধর্ম মতে, খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে এই পদচিহ্ন আবিষ্কৃত হয়। আবিষ্কৃত হওয়ার পরে পদচিহ্নের চতুর্দিকে ঘেরাও দিয়ে রাখা হয়েছে। যুগ যুগ ধরে শত শত পর্যটক পরিভ্রমণ করেছে চূড়াটিতে। বিশ্বের যেসব নামকরা পর্যটক এই চূড়াটিতে পরিভ্রমণ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইবনে বতুতা (১৩০৪-১৩৬৪) ও মাক্রো পলো (১২৫৪-১৩২৪)। চূড়াটিতে যারা পরিভ্রমণ করেছেন তারা এর চতুর্দিকে পরিদর্শন করা ছাড়াও স্পর্শ করে দেখেছেন আদম (আ.) এর পদচিহ্ন। বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাই বেশি এই চূড়ায় যতায়াত করে। এ ধর্মের অনুসারীরা মনে করে এই চূড়াটি তাদের অস্তিত্বের আদি প্রতীক। তবে চূড়াটিতে যাওয়া কোনো সহজ ব্যাপার নয়। প্রথমে নৌকা কিংবা পানিতে চলে এমন ধরনের যানে আরোহণ, তারপর পায়ে হেঁটে উঁচু পাহাড়ে উঠা, সেখান থেকে অনেক কষ্টের মাধ্যমে চূড়ায় উঠতে হয়। তবে এরই মধ্যে ঘটতে পারে নানা ধরনের বিপত্তি। সাপ, বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের কামড়ে মৃত্যুও ঘটতে পারে অনেকের। লাখ লাখ বছর ধরে চলে আসা যে রহস্য ভেদ আজও মানুষ জানতে পারেনি তা হলো_ চূড়ার যে স্থানে আদম (আ.) এর পায়ের চিহ্ন সেই স্থানে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সূর্যের আলো, আর মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মেঘের ঘনঘটা বা বৃষ্টি পড়ে না। এমন আরও অনেক রহস্য আছে এই চূড়াটিকে কেন্দ্র করে। অতি চমৎকার এই চূড়াটি বছরের পর বছর অবিকল রয়ে গেছে। এর সৌন্দর্য এতটুকু হ্রাস পায়নি। এ কারণে চূড়াটি বিশ্বের মানুষের কাছে পবিত্র বলে পরিচিত।

* মো. রিয়াজুল ইসলাম
Source: www.bangladesh-pratidin.com